আব্দুস সালাম, টেকনাফ
মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ বিজিবি সদস্য সিপাহী মোহাম্মদ বেলালের মরদেহ ৩০ ঘণ্টা পর সাগরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে, শনিবার সন্ধ্যায় টেকনাফের নাফ নদীর দমদমিয়া এলাকা থেকে এক শিশুসহ চার রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে।
রবিবার দুপুর ১২টার দিকে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম পাড়া সৈকত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মন্নান।
মৃত বিজিবি সদস্য মোহাম্মদ বেলাল (২৮) বিজিবির শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত ফাঁড়িতে সিপাহী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে বিজিবির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তার সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
নিখোঁজ হওয়ার সময় বিজিবি সদস্যের কাছে একটি চাইনিজ রাইফেল ও গুলি ভর্তি চারটি ম্যাগাজিন ছিল বলে জানা গেছে। তবে মরদেহ উদ্ধারের সময় এসব অস্ত্র পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইউপি সদস্য আব্দুল মন্নান জানান, শুক্রবার মধ্যরাতে শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় রোহিঙ্গাবোঝাই ট্রলার ডুবির পর বিজিবি সদস্যসহ নিখোঁজদের সন্ধানে বিজিবি, কোস্টগার্ড ও স্থানীয় জেলেরা একযোগে উদ্ধার অভিযান চালায়। রবিবার সকালে শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম পাড়া সৈকতের অদূরে সাগরে একটি মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। পরে কোস্টগার্ড ও বিজিবির সদস্যরা সেটি উদ্ধার করেন।
টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান বলেন, “শাহপরীর দ্বীপের অদূরবর্তী সাগর থেকে নিখোঁজ বিজিবি সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে মরদেহটি কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম উপকূলে শুক্রবার মধ্যরাতে রোহিঙ্গাবোঝাই ট্রলার ডুবে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫ জন রোহিঙ্গাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিজিবির একজন সদস্যসহ আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।
এ ঘটনায় মোট কতজন নিখোঁজ, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সম্ভাব্য এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে নাফ নদী ও সাগরে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট বাহিনী।